Benefits Of Blue Sapphire – ইন্দ্রনীলা (Indro Nila) পাথরের উপকারিতা

সব রত্ন-পাথরের মধ্যে ইন্দ্রনীলা (Blue Sapphire) সবচেয়ে মারাত্মক এবং দুষ্প্রাপ্য। দুষ্প্রাপ্য বলে অন্যান্য রত্ন-পাথরের তুলনায় নীলার দামও বেশি। নীলা অনেক ধরনের পাওয়া যায়। এর মধ্যে ইন্দ্রনীলা, গঙ্গাজল নীলা পিতাম্বর নীলা, ষ্টার নীলা ইত্যাদি। সব রকম নীলার মধ্যে ইন্দ্রনীলার প্রতিক্রিয়া বা ক্রিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী। বর্তমানে ইন্দ্রনীলা খুব বেশি না পাওয়ার কারণে এবং দাম বেশি হওয়ায় বেশি পরিমাণে ষ্টার নীলা ব্যবহারের পরার্মশ জ্যোতিষীরা দিয়ে থাকেন। নীলার রাসায়নিক উপদান অ্যালুমিনিয়াম অর্কসাইড এবং স্যাফায়ারের অন্যান্য উপাদানে খনিতে নীলার সৃষ্টি । লাল রঙের সামান্য নীলাভ নীলাকে রক্তমুখী নীলা বলা হয় । হালকা বেগুনি আভাযুক্ত নীলাকে বলা হয় অপরাজিতা নীলা । কাশ্নিরে বেশি পাওয়া যায় বলে অনেক সময় কাশ্নিরি নীলাও বলে অবহিত করা হয়ে থাকে । অপরাজিতা নীলা বেশি পাওয়া যায় না বলে এর দাম একটু বেশি । অপরাজিতা নীলায় সামান্য হলুদ আভা থাকলে তাকে বলা হয় পীতাস্বর নীলা । নীলা পুরোপুরি স্বচ্ছ না হয়ে ঘোলাটে হলে তাকে বলা হয় গঙ্গাজল নীলা । শনির অশুভ প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য জাতক/জাতিকাকে নীলা ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয় । যে কোনো নীলাই অতি মূল্যাবান ।অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ ছাড়া কোনো নীলাই ব্যবহার করা উচিত নয় । কারণ নীলা ব্যবহারে উপকার যতোটুকু, তার থেকে বেশি ক্ষতিকর । নীলা ব্যবহারে দারিদ্র,দুঃখ-কষ্ট হ্রাস পায়, জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আসে, কাজকর্ম বাধা-বিঘ্ন দূর হয় । নীলার উপকারিতা নীলা যে সমস্ত জাতক/জাতিকার জম্ম চকে বা রাশি অশুভ স্থানে আছে তাদের বিভিন্ন রোগের উপসর্গ আসে । যেমন হার্ড ব্যথা,বাত রোগ,পায়ে আঘাত লাগা এবং কষ্টকর যন্ত্রনা জাতীয় রোগের এবং স্নায়ুর শক্তি বস্তুক । তাছাড়া চর্ম রোগ, মাথা ব্যথা, কানে কম শুনা,মাথা ও হাত পায়ের যন্ত্রনা,মৃগী রোগে আংটি করে ডান হাতের মধ্যমা আঙ্গুলে ধারন করলে প্রচুর উপকার পাওয়া যায় ।

আমাদের সংগ্রহে থাকা ইন্দ্রনীলা দেখতে ক্লিক করুন এখানে – Collection of Blue Sapphire

সব থেকে সুন্দর নীলা হচ্ছে গাড় নীল রঙের এবং নীলা পাথর শনিগ্রহ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। অনেক কাল আগে উৎকৃষ্ট নীল রঙের নীলা পাথর পাওয়া যেত কাশ্মীর, শ্রিলাঙ্কা এবং বার্মাতে। নীলা পাথর ব্যবহারে ব্যক্তির জ্ঞান গাম্ভীর্য ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। আসল নীলা পাথর হার্ট এবং পাকিস্থলির সমস্যায় উপকারী। শনিগ্রহের ভালো প্রভাব প্রাচুর্যতা আনয়ন করে কিন্তু পাশাপাশি অতিরিক্ত ভোগপ্রবণতা কমাতে সাহায্য করে। “Old Testament” এ নীলা সম্পর্কে বলা হয়েছে— “রাজ সিংহাসন নীলা পাথরের মতই”।

জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে শনি গ্রহের খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে নীলা পাথর সাহায্য করে থাকে। মানুষের জীবনে সমস্যা দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক ধরনের সমস্যা মানুষের জীবনে সব সময়ই লেগে থাকে, একটা শেষ হবার আগেই আরেকটা এসে জুড়ে যায়। যদি এ সমস্যা গুলো ছোট খাট হয়ে থাকে তাহলে এটা রাহুর সমস্যার কারনে হয়ে থাকে, যার জন্য গোমেদ পাথর যথেষ্ট। কিন্তু যাদের এ সমস্যা গুলোর প্রভাব বেশী এবং যে কাজেই হাত দেওয়া হোক না কেন সে কাজই যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে এটা শনি গ্রহের খারাপ প্রভাবের কারনে। ফলে জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। এমন অবস্থায় উপকারী পাথর হচ্ছে ইন্দ্র নীলা পাথর। বিশেষ করে যাদের কুম্ভ রাশি (Aquarius) Jan 21- Feb 20 ও মকর রাশি (Capricon) Dec 21-Jan 20 তাদের রাশির প্রধান পাথর হচ্ছে ইন্দ্র নীলা পাথর। এখানে ইন্দ্র নীলা পাথরের আরো কিছু উপকারের (Benefits of Indro Nila Stone) কথা উল্লেখ করা হলঃ

রাশিরত্ন পাথর নীলা পাথরের কিছু উপকারিতা নিম্নরূপ

  • যাদের শনি গ্রহের খারাপ প্রভাব চলছে তাদের রাশি চক্রের শক্তি যোগায় ইন্দ্র নীলা পাথর।
  • জ্বরে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির বুকের উপর যদি নীলা পাথর রাখা যায় তাহলে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় জ্বরের তিব্রতা কমে আসে।
  • যদি নীলা সহ্য হয়, তাহলে যে ব্যক্তি নীলা ধারন করবে তার দারিদ্রতা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আল্লাহর ইচ্ছায় বদলে সম্ভাবনায় রুপ নিবে।
  • আসল নীলা পাথর শয়তানের খারপ ইচ্ছা থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
  • নীলা পাথর ধারনে অবৈধ যৌন সম্পর্কের ইচ্ছা নষ্ট হয়ে যায়।
  • নীলা পাথর ব্যবহারে অনেক সময় খুব দ্রুত ফল পাওয়া যায়। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে নীলা পাথর সম্পদ বৃদ্ধি, সৌভাগ্য, সুযোগ এবং প্রসারের সাথে সম্পৃক্ত।
  • খুব ভালো রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে ইন্দ্র নীলা পাথর। এ পাথর ব্যবহারে শত্রু থেকে রক্ষা, খারাপ দৃষ্টি ও হিংসে থেকে বেঁচে থাকে যায়।
  • নীলা পাথর ব্যবহারের ফলে মানুষিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, দ্বিধা দণ্ড কেটে যায় এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য পাওয়া যায়।
  • ইন্দ্র নীলা পাথর সরাসরি সম্পদ বৃদ্ধির সাথে জড়িত। এ পাথর ব্যবহারের ফলে অর্থনৈতিক দিকে এগিয়ে যাওয়া যায় এবং বহুবিধ আয়ের পথ পাওয়া যায়। ফলে সম্মান, প্রতিপ্রত্তি ও সুনাম বেড়ে যায়।

নীলা স্বচ্ছ উজ্জ্বল নীল আভাযুক্ত রত্ন । এটির বৈশিষ্ট স্বাদহীন, শুকনো এবং শীতল । নীলাকে আরবী/উর্দু/ফার্সীতে কবুদ বা ইয়াকুত বলে । ইহা নীলকান্তমণি নামেও পরিচিত ।

নীলা কয়েক প্রকারের যেমন-ইন্দ্রনীলা, ষ্টারনীলা, অপরাজিতা নীলা, পীতাম্বরনীলা, গঙ্গাজলনীলা, রক্তমুখী নীলা ইত্যাদি ।

বর্ণের দিক থেকে উজ্জ্বল নীল আভাযুক্ত রঙ-এর সাথে রক্তের মত আভাযুক্ত, হরিদ্রাভ, শ্বেত কিঞ্চিৎ নীল আভাযুক্ত প্রভৃতি বর্ণের হয়ে থাকে । উজ্জ্বল নীল আভাযুক্ত নীলাই শ্রেষ্ঠ । নীলা বা স্যাফায়ার কোরানডাম (Corundum) গ্রুপ এর রত্ন।

তামিল শব্দ কুরুবিন্দম বলতে বোঝায় ইংরেজি কোরানডাম নামের একটি খনিজ পদার্থ । তেলুগু ভাষায় এরই নাম কুরুন্দীম। কোরানডামের রাসায়নিক উপাদান অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড ।

উপাদান (Chemical Composition) : এ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এবং স্যাফায়ারের অন্যান্য উপাদান সহ নীলার সৃষ্টি।

উপকারিতা: জ্যোতিষ বিজ্ঞান রাশিচক্রে জাতক/জাতিকার মকর ও কুম্ভ রাশির রত্ন । শনির অশুভত্বের কারকতা থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় । এটি যাদের উপযোগী তাদেরকে অধিক ধনশালী ও ঐশ্বর্যশালী করে । মনকে শক্তিশালী ও সাহস বৃদ্বি করে ।

প্রাপ্তিস্থান : ইন্দ্রনীলা মুলত শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড,বার্মা, অষ্ট্রেলীয়া ও আফ্রিকা থেকে আসে। তবে কাষ্মীরের নীলা জগৎবিখ্যাত। তবে এখন আর তেমন পাওয়া যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *